হেমন্তের রাত — নস্টালজিক মুক্তগদ্য

হেমন্তের রাত — নস্টালজিক মুক্তগদ্য

হেমন্তের রাত — একটি নস্টালজিক মুক্তগদ্য। গদ্যটি লিখেছেন আবুল হাসনাত বাঁধন। এই মুক্তগদ্যে ভিন্ন শহরে একাকি বাস করা এক যুবকের, হেমন্তের রাত-কে অনুভব করে নস্টালজিক ও বিষণ্ণ হয়ে পড়া, অতীত স্মৃতির সমুদ্র ডুব দেওয়া, ইত্যাদি ফুটে উঠেছে। যারা ভীষণভাবে একাকিত্বে ভুগছেন, লেখাটি তাদের হয়তো একটা স্নিগ্ধ অনুভূতি দেবে, কিছু সময়ের জন্য হয়তো নিজেদের শৈশবে ফিরে যেতে পারবেন; যার প্রতিটি পরত নস্টালজিয়ায় ভরা। তাহলে চলুন, সময় ভ্রমণ করে আসা যাক।

হেমন্তের রাত | আবুল হাসনাত বাঁধন

আজকে শুক্লাদ্বাদশী শেষে কৃষ্ণপক্ষ শুরু হয়েছে — ক্যালেন্ডারের পাতায় সে ছোট্ট নোটটি মনে পড়তেই কেমন অদ্ভুত শান্তি নামলো। বাইরে চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, ল্যাম্পপোস্টের নরম আলো রাস্তায় ছিটকে পড়ছে হালকা কণা-ছায়ার মতো। অফিস থেকে বেরিয়েছি রাত সাড়ে নয়টায়। শহরটা আজ রাতটা ভীষণ নিঃশব্দ; কিছু কিছু দোকান হালকা লাইট জ্বালিয়ে রেখে বেঁচে আছে, হঠাৎ হঠাৎ কয়েকজন করে মোবাইল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক, মাঝে মাঝে ভাঙা রাস্তায় টুকটাক সাইকেল কিংবা রিকশার শব্দ — এই সবের মধ্যেও আমি স্থির পাহাড়ের মতো করে একা। এই শহরে আমার পরিচিত কেউ নেই — পুরো একেলা! কেউ আমাকে চিনে না, আমিও কাউকে চিনি না, এত এত অপরিচিত মুখের ভিড়েই ভেসে যাই আমি।

» আরও পড়ুন: লেখক হবার পথে — সফলতার শিক্ষণীয় গল্প

বাতাসে হাসনাহেনা ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে বেড়াচ্ছে — নাকের ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে আসে সেই সুগন্ধ, যেন তীব্র একটা স্মৃতির সুর। হেমন্ত মানেই যে কেবল ঠান্ডা ধরণি নয়, তা আমি জানি। আমি মনে করি — হেমন্ত মানে হলো আলোর সেই কোমলতা, গন্ধের একটি বিশেষ স্নিগ্ধতা; সবকিছু একটু তীক্ষ্ণ, একটু নরম — একই সঙ্গে অতীতকে টেনে আনার ক্ষমতাও বেশি তার। রাস্তায় হেঁটে হেঁটে আমি নস্টালজিক হয়ে পড়ি। শৈশবের দিনগুলোর অপ্রত্যাশিত ছবি — নতুন করে চোখের সামনে খুলে আসে। মায়ের হাতের রান্না, ছাদের ওপর শো শো হাওয়ার শব্দ, মাঠের ধূসর মাটিতে ছুঁয়ে থাকা গ্রীষ্মের শেষ ধুলো — সবকিছু আজ আবার বুকে ধাক্কা দেয়।

আমি বিষণ্ণ হয়ে পড়ি। বিষণ্ণতা মানে আমার কাছে শুধু কষ্ট নয়; এটা নীরব এক ডায়েরি — যেটার পাতায় আমি বার বার ফিরে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। স্মৃতিচারণ করে দেখি, ছোটো বেলায় আমরা ভাবতাম শহরগুলো অদ্ভুত বড়ো — সব রাস্তা যেন কোনো এক গন্তব্যে নিয়ে যাবে; কিন্তু এখন দেখছি সেই গন্তব্যগুলো অদ্ভুতভাবে ফাঁকা। তখনকার দৌড়ঝাঁপ, আলগা জামা, খোলা আকাশ — সব মনে পড়লে মনে হয়, যেন কোনো হারিয়ে যাওয়া ধুলো ছিটকে পড়ছে আমার চোখে।

আমি ভাবি — কখনো কি আমরা নিজেদের এমনভাবে ছেড়ে যাই যে, ফিরে পাওয়ার উপায় থাকে না? শহরের আলো আমাদের চোখকে ম্লান করে দেয়, সম্পর্কগুলোকে পাতলা করে দেয় — সম্ভবত তাই আমি আজ সন্ধ্যার এই নিঃসঙ্গতাকে এত কাছে পেয়েছি। অফিসে দিনের কাজ, মিটিং, রিপোর্ট — সব মিলিয়ে একটা অনুভূতিহীন যন্ত্র-মানবের মতো আমি সারাদিন চলি, মাউস-কিবোর্ড আর স্ক্রিনের ভেতর। কিন্তু রাতে যখন পুরো শহর শুয়ে পড়ে, তখন আমার মধ্যে যে একাকিত্বটা জেগে ওঠে, তার সঙ্গে কথা বলতে হয়; ওটাই আজ আমার সঙ্গী।

» আরও পড়ুন: সবুজ আলোর দেশে — বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি

রাস্তার পাশে কয়েকটা পাটের দোকান — দোকানদার নিয়ম করে রেশমি স্ট্রিংয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। হাওয়ার সঙ্গে ওগুলো কাঁপে, যেন আমার ভেতরের কোনো পুরোনো স্মৃতিকে ছুঁতে চায়। তখনই মনের কোনে ভেসে উঠে দাদুর কথা — সে আমায় বলত, “শীত এলেই পুরাতন গল্পগুলো ফিরে আসে, মনে করবি কেমন করে আগুয়ান হাওয়া বইত।” দাদুর কথা মনে পড়তেই আমার শরীরটা হঠাৎ করে নরম হয়ে আসে; কেমন যেন একধরনের ঘ্রাণ আমার মনে আবার বাঁচে — পিঠে ছোঁয়া পড়ে, ঠোঁটে হাসিটুকু এসে যায়।

আমি হাঁটতে থাকি। পথটি অচেনা নয়, কিন্তু রাতের অন্ধকারে সবকিছু নতুনের মতো। একটু এগোতেই যে ছোটো ভাসমান দোকানটা ছিল, আজ সেখানে দুটো লোক দাঁড়িয়ে গরম পিঠা খাচ্ছে। দোকানির উৎসুক চোখে আমি পরিচিত না হলেও, ওর মুখটায় একরাশ মমতা আছে — ব্যস্ত শহরের ভেতরে যেন একটা ছোট্ট ঘনিষ্ঠতা। আমি সাধারণত মুচকি হেসে থাকি, কিন্তু হাসিটা ভেতর থেকে আসে না। বাইরে এখন যে ঠান্ডা বাতাস বইছে সেটা তীব্র শীতের মতো বরফ-ঠান্ডা নয় — এটা কেবল হেমন্তের আশেপাশে শীতের আগমনী বার্তার মতো।

শৈশবের কথা ভাবতে ভাবতে আমি একটা পুরোনো বাড়ির সামনে চলে আসি — তার গায়ে এখন রংও নেই, কিন্তু জানালার কাঠের খাঁজগুলো এখনো রয়ে গেছে। ছোটোবেলায় এমনই এক জানালার ঠিক পাশে বসে, আমি হেমন্তের গাঢ় নীল আকাশের দিকে মুখ হা করে তাকিয়ে থাকতাম — কেউ কি জানে সেই কথা? আঙুল দিয়ে খেলার ধূসর অংশ, মায়ের চিড়া ভেজানো মাটির বাটি, খোলা দোতলা — সব বলছিল অন্য এক জীবনের গল্প। আমি জানি — এই সবের মধ্যে প্রতিটি বস্তু আমার মধ্যে জড়িয়ে আছে, কঠিন পাথরের মতো একটা ওজন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমার বুকের ভেতর, যা রাতের বেলায় হঠাৎ করে আরও বেশি ভারী মনে হয়।

» আরও পড়ুন: বই পড়ার গুরুত্ব: জ্ঞান ও চেতনার উন্মেষের পথ

কারও কারও কাছে নস্টালজিয়া হয়তো রোমান্টিক — কিন্তু আমার জন্য সেটা এক ধরনের ক্ষুধা। আমি ক্ষুধিত সেই দিনের জন্য, যখন কোনো দায়িত্ব ছিল না, কেবল খেলাধুলা, আড্ডা, আর সন্ধ্যার খোলা আকাশ। আজকের আমি সেইসব স্মৃতির কাছে এসে দাঁড়াই, হাত বাড়াই, কিন্তু কিছুই আমার মধ্যে ধরে থাকে না — আছে শুধু অনুভব। জীবনের এক পর্যায়ে এসে সবকিছু এভাবে কেটে যায়? বা হয়তো আমরা নিজেরাই কেটে ফেলি? আসলে, আমি জানি না!

বাসায় ফেরার পথে একটা বিরল দৃশ্য চোখে পড়ে — একজন বৃদ্ধা রাস্তার ধারে বসে চায়ের কাপ নিয়ে কিছুটা গুনগুন করে গান করছে। তার গলার স্বরে কষ্টের মতো কিছু নেই, বরং একধরনের শান্তি আছে। আমি থামি, তাকাই, তারপর মৃদু কণ্ঠে বলি—”শীত ভালো নয় কি?” সে হেসে বলে, “শীত যত আসে, পুরোনো কথা তত বাঁচে। তুমি কেমন?” আমি আর কিছু বলি না; বলতে গেলে অচল হয়ে পড়ি — কিন্তু তার মুখে যে শান্তি দেখি, সেটা আমার ভেতর কিছু একটাকে নরম করে দেয়। হয়ত বৃদ্ধা জানে — একাকিত্ব ছুঁয়ে দিলেও নিঃসঙ্গ গান আমাদের ঘরে ফিরতে সাহায্য করে!

ঘরে পৌঁছেই আমি জানালা খুলে দিই। আকাশটাও কেমন যেন আজ নীরব, তার বুকে অজানা কয়েকটি তারা ঘুমিয়ে আছে। ঘরের কোনো এক কোনায় দিনের কাজের কাগজেরা ছড়ানো — আমি সেগুলো দেখে মনে করি, কাগজেরা কি বুঝবে আমার আজকের কথা? কাগজ আমার কথাগুলো নেবে না, কিন্তু আমি লিখতে বসি — লেখাটা আমার জন্য, আমার একাকিত্বকে বোঝানোর চেষ্টা। শব্দগুলো মৃদু, কখনো কখনো কাঁপা — একেকটা বাক্য যেন পুরোনো দিনের কণ্ঠস্বরকে ডাকছে…!

লিখতে লিখতে আমি দেখি স্মৃতিরা একে একে তীব্রবেগে ফিরে আসছে — স্কুলের ছুটির ঘণ্টা, সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে বাড়ি ফেরা, বারান্দায় বসে বসে পড়া গল্প-উপন্যাসের বই — সবকিছু যেন একটি রেকর্ডের মতো। আমি সেই রেকর্ড প্লে করে ফেলি — কখনো গান, কখনো কবিতা, কখনো গিটারের সুর। শৈশবের বন্ধুদের মুখ লক্ষ্য করে দেখি — কেউ দেশে, কেউ বিদেশে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততায় হারিয়ে গেছে। আর আমি? আমি এই শহরের ভেতরে এক ভাসমান পত্র যেন!

» আরও পড়ুন: চায়ের শেষ চুমুক — গভীর ভালোবাসার গল্প

শৈশবের স্মৃতিগুলোর সঙ্গে মিলেমিশে আসে একটা তীব্র ইচ্ছা — কী করে আবার সেই নিরাপত্তা ফিরে পাওয়া যায়? সেই চিন্তামুক্ত নির্মল জীবন? কী করে আবার কেউ এমন করে আমার দিকে তাকাবে যে, আমি জানব আমি একা নই? উত্তর আমি জানি না; হয়তো কোনো উত্তর নেই। অনেক সময় মনে হয় আমরা নিজেকে এমন জটিল করে ফেলি যে, সাধারণ উত্তরগুলোই আমরা আর দেখতে পাই না। ছোটোখাটো কথাবার্তা, ধোঁয়ার মতো নরম একটা আলিঙ্গন — এসব কি আবার অর্জন করা সম্ভব?

বাইরে থেকে আবার বাতাসের গন্ধ আসে — হাসনাহেনার মিষ্টি সুবাস; আর কোনো কিছু নেই; আছে কেবল একরাশ স্মৃতি। আমি বুঝতে পারি, এই স্মৃতিগুলোই আমার জীবনের ধারক — যখন বর্তমান নির্জন ও বিষাদিত হয়ে ওঠে, তখন এসব স্মৃতি আমাকে বাঁচিয়ে রাখে। হেমন্ত কিন্তু শুধু শীতের আগমনী বার্তা নয়; এটা একটি অন্তর্বর্তী কক্ষ, যেখানে আমরা অতীত ও বর্তমানকে মিশিয়ে দেখি। আমি শিউরে উঠি, কিন্তু ভালো লাগাও আছে — একধরনের শান্ত একাকিত্ব যা শৈশবের কাছাকাছি পৌঁছে দেয় আমাকে।

রাত্রি বাড়তে থাকে। বাইরে দূর থেকে একটা গাড়ির হেডলাইট ভেদ করে চলে যায়, তারপর আবার নিস্তব্ধতা। আমি জানি আগামীকালও একই রুটিন চলবে — অফিস, রিপোর্ট, মিটিং — তারপর রাতের এই নীরব গৃহ-যাত্রা। তবুও আজ রাতে কিছু ভিন্ন আছে: স্মৃতিগুলো এতটাই কাছাকাছি যে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তাদের বলেছি — তোমরা আমাকে ত্রাণ দিও; আর তারা আমার কণ্ঠে ফিরে এসেছে।

গতকালের আমি আজকের তুলনায় একটু ভিন্ন ছিলাম। আজ আমি একটু বেশি নরম, একটু বেশি বোঝাপড়া করার মতো। হয়ত কেবল এই রাতের হিম—হেমন্ত শুধুই ঠান্ডা নয়, এটা একটা উপলব্ধি এনে দেয়। আমি জানি — এসব উপলব্ধি কেবল রাতেই আসে; দিনের আলোয় সবকিছু দ্রুত ছেঁকে যায়, কাজের ধাক্কায় সব স্মৃতি আবার পেছনে সরে যায়। কিন্তু রাতে, যখন আমি একাকি পথ চলি, তখন প্রতিটি স্মৃতি মৃদু হয়ে জেগে ওঠে, আমাকে জাগায়, আবার আমায় নিজেকে চিনতে শেখায়।

শেষমেশ আমি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ি। ছাদের ওপর থেকে শিশির চুম্বন পাঠায় — ওটা এখনো আমার জানালার কাচে জমে আছে। আমি কানের কাছে হাত রাখি, বাইরের হাওয়ার আওয়াজ শুনি, মনে হয় নেতিয়ে থাকা লতা গাছও আমাকে সঙ্গে নিয়ে কাহিনি বলে চলে। আমি চোখ বন্ধ করে ঠিক যেমন করে শৈশবে ঘুমোতাম, ঠিক তেমনই চেষ্টা করি নিশ্বাস ধীরে ধীরে টেনে নেওয়ার — প্রতিটি নিশ্বাসে স্মৃতির কোনো নরম দাগকে নিজের সাথে খোঁজ করে নেওয়া।

» আরও পড়ুন: জীবন নিয়ে উক্তি ও পর্যালোচনা — প্রবন্ধ

এই শহরে আমার পরিচিত কেউ নেই — ঠিক আছে। আমি ‘নিজের সঙ্গে থেকে যেতে’ শেখার চেষ্টা করছি। রাতের নিঃশব্দে আমি বুঝলাম — একাকিত্ব মানেই দুঃখ নয়; এটা হয়তো নিজের জীবনের সঙ্গে গোপন আলাপের একটা খণ্ডকাল। হেমন্তের রাতের গন্ধে, হাসনাহেনার স্মৃতিতে আর পুরোনো দিনের কথায় আমি আজ রাতটা কাটিয়ে দিলাম — কঠিন হলেও কিছুটা আরাম নিয়ে, কারণ আজ রাতে আমি আমার অতীতকে ভালোবেসে কিছুটা শান্ত হলাম!

মাঝে মাঝে মনে হয় — আগামীকাল সকাল হলে হয়তো আমি আবার ব্যস্ত থাকব, কিন্তু এইসব হেমন্তের রাত গুলো, এই নীরব মুহূর্তগুলোই আমাকে তৈরি করে রাখে। আমি জানি — জীবনটা একেকদিন করে গঠিত, আর প্রতিটি ছোটো ছোটো সন্ধ্যা, প্রতিটি শৈশবের নীলাভ স্মৃতি — সব মিলিয়ে আমার একাকিত্বকে আরেক রকম করে গুছিয়ে দেয়। আর আজকের এই হেমন্তের রাত এর শেষে, আমি সেই সবকে আলিঙ্গন করে ঘুমোতে যাচ্ছি। আগামীকাল নতুন কিছু আসবে, কিন্তু আজকের স্মৃতিগুলো মনে থাকবে — নরম, তীব্র, এবং অমূল্য হয়ে!

— শেষ —

*****

মুক্তগদ্য: হেমন্তের রাত

লেখা: আবুল হাসনাত বাঁধন

রচনাকাল: ২০/১০/২০২৫

প্রিয় পাঠক, নিয়মিত এই ধরনের আরও মুক্তগদ্য পড়তে শব্দশৈলী পোর্টাল ও ফেসবুক পেজে চোখ রাখুন। ধন্যবাদ।

Share This:

1 thought on “হেমন্তের রাত — নস্টালজিক মুক্তগদ্য”

  1. লেখাটা পড়তে পড়তে কোন অতীতে যেন হারিয়ে গেলাম। একদম খাঁটি নস্টালজিয়া!

    হাজার বছরের পুরোনো হেমন্তের রাত সবার জীবনে ফিরে ফিরে আসুক…!

মন্তব্য করুন:

Scroll to Top