তোমায় পাইনি ছুঁতে — মুক্তগদ্য

তোমায় পাইনি ছুঁতে — মুক্তগদ্য

তোমায় পাইনি ছুঁতে — মুক্তগদ্য। মুক্তগদ্যটি লিখেছেন বাপ্পী মাহমুদ। মূল লেখায় ভালোবাসার প্রতি একরাশ অভিমান নিয়ে রচিত হয়েছে রূপক লেখা। অভিমানী ভালোবাসা তাতে হয়ে উঠেছে গভীর!

তোমায় পাইনি ছুঁতে | বাপ্পী মাহমুদ

এক.

তুমি খুব করে চাইতে পারতে আমায়!

পারতে কি? নিভৃত যখন চিনে নেয় সন্ধ্যার আধার, চাঁদ তখন অকৃপণ আলো ছড়ায়। আমার গল্পে তুমি কেন সেই চাঁদ হলে না? আমার অনেক দুঃখ তোমায় নিয়ে — জানো?

কখনো তারকারাজি স্পর্শের লোভ পেরিয়েও আমি তোমায় ছুঁতে চেয়েছি, যখন তুমি আমায় বুঝতে অপারগ। তবু.. ভালোবাসা কি অবহেলা মেনে চলে, বলো?

অনেক কাছ থেকে তুমি অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছ।

কোন আবেগের সুতোয় আমাদের গল্প প্রাণোচ্ছল হবে আবার? আমি জানি না! অথচ জানার তৃষ্ণা তাতে ফুরায় না। এ এক অনবদ্য চেষ্টা তোমায় কাছে পাবার। যদিও তুমি সুদূরের গল্প আমার এই জীবনে।

মনে মনে অনেক ভেবেছি তোমায় — যখন ভাবনার বিলাসীতা কোনো কাজেই আসেনি। কবি মনে আমার একটাই আক্ষেপ — তোমায় পাইনি ছুঁতে! তবে এই কি গল্পের শেষ? না! আরও কথা বাকি আছে অল্প।

অল্প, কিন্তু গভীর। বোঝো? না বুঝলেও ক্ষতি নেই। আমাকেই তুমি বুঝোনি, আমার কথা বুঝে কী আর হবে!

» আরও পড়ুন: গাজরের হালুয়া — ছোট গল্প

দুই.

কিছুদিন আগের স্মৃতি — আমি সকালের আড়মোড়া ভাঙি, দেখি, রোদটা উজ্জ্বল সাদা আলো বিছিয়ে কর্মব্যস্ত দিন রচনা করছে। আর সেদিনই তুমি আমায় দেখলে। জানতে চাইলে, কবিরা উদাস কেন হয়?

সেই প্রশ্নে আবেগ ছিল, ছিল কিছু কৌতূহল মাখা অনুভূতি। বড্ড মায়ায় পড়ে গেলাম। বললাম, “আবেগ দিয়ে কবিতা কিনে যারা.. তাদের কাছে উদাসীনতায় প্রথম চাওয়া।”

হাসলে তুমি। সেই হাসিতে প্রশ্রয় ছিল। আমি ঝুঁকে যাই আরও তোমাতে। আমার কতক আশা ছিল — তুমি অন্তত বন্ধুত্বের হাত বাড়াবে।

অনেক কিছুই হবার ছিল।

আমাদের সম্পর্ক যখন একটু একটু করে এগুচ্ছিলো তখনই কেন বাংলা সিনেমার মতো বিরহ নেমে এলো — অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলো তোমার? আমি জানি না! শুধু জানি — তোমায় পাইনি ছুঁতে। এই আক্ষেপ আমার চিরকালের।

তুমি হবে না আমার গল্প, তবু কেন হয়ে এলে হাতছানি?

তিন.

চিঠি লিখতে কলম তুলে নিই। মনের ভেতর তোমায় না পাবার অজানা আশংকা, কলমের আচড়েও উঠে আসে শদের ঝড়। তুমি কি বলতে পারো কেন? এক জীবনে আমায় ভীতু বলায় চলে।

তবু তোমায় কাছে পাবার ঝুঁকি কেন নিয়েছিলাম?

এসব দেখেও কেন বুঝোনি — কতখানি ভালোবাসি তোমায়? নিভৃত সন্ধ্যা আজও অনেক না বলা আক্ষেপ জুড়ে দেয় তোমায় নিয়ে। তবু.. তোমায় পাইনি ছুঁতে!

বিয়েটা হয়েই গেল তোমার, বাস্তবতার বিপরীতে যেতে অপারগ আমি। যত্রতত্র হতে শুনি তুমি নাকি আছো রাজরানির মতো সুখী। আমিও তো চেয়েছিলাম — তোমার সুখ। কিন্তু সেই সুখের মাঝে আমি তোমায় পাইনি ছুঁতে।

হয়তো আমার মতো উদাস কবির জীবনে তোমার ছোঁয়া পাওয়া বারণ। তবু অপারগতা ভুলে মনটা বারবার বলে, কোনো এক মধ্যদুপুরে পড়বে তুমি আমার কবিতা।

আর.. আর আচ্ছন্নের মতো বুঝবে কতটা দুঃখ মিশ্রিত গল্প হয়ে আছো তুমি আমার। কেন তোমায় পাইনি ছুঁতে? এই প্রশ্নই যেন তোমায় সেই মুহূর্তে বুঝিয়ে দিবে — অবহেলিত ভালোবাসাও যখন বেঁচে থাকে, তখনই কবিতার স্বার্থকতা ফুটে ওঠে।

» আরও পড়ুন: পারাপার — বই রিভিউ

চার.

রাতের আকাশে অগণিত তারা জ্বলে। তবু তোমায় পাইনি ছুঁতে — এই আক্ষেপে আমার আকাশের সকল তারা নিভে যায়। আমি ভাবি একলা বসে, পারতাম কি নতুন জীবনের গল্প শুরু করতে?

হয়তো পারতাম!

কিন্তু আমার প্রতিটি গল্পের মাঝেই তুমি এসে দাঁড়াও। তুমি হলে আমার অসমাপ্ত গল্প, আর আমি হলাম তোমার সেই গল্পের ভুলে যাওয়া এক অর্বাচীন অধ্যায়।

তুমি আমার সুখের মতো অসুখ, আমি সেই অসুখে ডুব দিই। সাঁতার কাটি। অথচ অসুখে তলিয়ে যেতে গিয়েও যাই না তলিয়ে। শুধু তোমায় ছুঁয়ে দেখবার আশ্বাসে আমার এখনও সংগ্রাম করে যাওয়া। তবু.. তোমায় পাইনি ছুঁতে!

ভালোবাসা.. সে কোন শহরে থাকে?

আমার পদযুগল কেন সে শহর চিনে না? আমি ভাবতে পারি না। আমি বুঝতেও পারি না। মাঝখান দিয়ে বেড়ে যায় অনেকখানি আক্ষেপ!

পাঁচ.

অনেক না পাওয়ার এ জীবনে আমি তোমায় চেয়েছি কোন ভুলে — বলতে পারো?

আয়নায় তাকিয়ে আমার দৃষ্টি নিভে আসে। তবু দেখি, চোখের অশ্রুতে তুমি ছায়া হয়ে নামছো।

এই শহরের অগণিত লোকের ভীড় আমার অর্থহীন লাগে এখন। যেখানে তোমার হাসি দেখি না, সেখানে ধূসর রঙের ছাই উড়িয়ে জীবন হারাই আমি। আমার এই অবসাদ ভরা যাপনে তুমি হলে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মতো। তবু.. তোমায় আমি ভালোবাসি।

তোমায় আর খুঁজবো না — কত ভেবেছি!

কিন্তু আমার মনের করিডোরে বেজে গেছে কেবলই তোমার সংকল্প। মনের গল্পে ব্যত্যয় ঘটেনি কখনও। আমিই কেবল পিছিয়ে যাই দ্বিগুণ অভিমানে।

তোমায় হারালেও হারতে আর ইচ্ছে করে না। ভালোবাসায় অযাচিত বলে কোনো অনুভূতি নেই, জানো? তবু তোমায় পাইনি ছুঁতে।

আমার এই অক্ষমতা কার কাছে প্রকাশ করি? যে আক্ষেপে তোমায় খুঁজিফিরি, তুমি সেই আক্ষেপের বিপরীতে লিখে গেছো আমারই অন্তিমকাল।

» আরও পড়ুন: অন্ধকার পেরিয়ে — শিক্ষনীয় গল্প

ছয়.

তোমাকে হারানোর পর থেকেই আমার ভাবনারা ইতস্তত। আর তুমি সুখে ব্যস্ত। অনেক দূরের গল্পেও তুমি আমার নও!

আমার সকল ছেলেমানুষী চাওয়ার বিপরীতে তোমায় যখন দাঁড় করায়, তখনই ভালোবাসাকে হেরে যেতে দেখি। তখনই আমি ধূসর হয়ে যাই। নিস্প্রভ সেই কষ্ট বোঝো কি তুমি?

আমি যখন দূর দূরান্ত ভেবেছি তোমায় নিয়ে, তুমি তখন বাড়িয়ে নিয়েছো দূরত্ব। ভালোবাসার গল্পে আমাদের চাওয়া-পাওয়া অল্পই থাকে। তবু আমরা কেউ না কেউ ঠকে যাই।

আমিও ঠকে গেছি, তবু ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে লিখি তোমার গল্প। তোমায় পাইনি ছুঁতে — আমার সেই অপারগতা আর তোমার দেওয়া অবজ্ঞা নিয়ে রচিত এ গল্প। আমি লিখে চলি, লিখেই চলি.. ক্লান্ত হই না!

সাত.

গল্পের শেষ নামাতে আর ইচ্ছে হয় না।

শেষ মানেই তো ভালোবাসার মৃত্যু! কিন্তু জগৎ আমার এবং ভালোবাসার নিয়মে চলে না। তুমিও জগতের মতোই স্বার্থপর।

আমাদের আবার দেখা হোক। তোমার চাহনিতে ফুটে উঠুক প্রায় ভুলতে বসা সেই পুরনো মায়া। আর আমিও একটু একটু করে না হয় হারিয়ে যাব দূরের কোন কুয়াশায়।

আবারও নামবে নিভৃত সন্ধ্যা। থাকবে অপারগতার গল্প আমার। দিনশেষে আমিও যে বেবাগী — কারণ তোমায় পাইনি ছুঁতে!


মুক্তগদ্য: তোমায় পাইনি ছুঁতে

লেখা: বাপ্পী মাহমুদ 

প্রিয় পাঠক, নিয়মিত এই ধরনের আরও মুক্তগদ্য পড়তে শব্দশৈলী পোর্টালফেসবুক পেজে চোখ রাখুন। ধন্যবাদ।

Share This:

মন্তব্য করুন:

Scroll to Top