চায়ের শেষ চুমুক — গভীর ভালোবাসার গল্প

চায়ের শেষ চুমুক — গভীর ভালোবাসার গল্প

চায়ের শেষ চুমুক — গভীর ভালোবাসার গল্প। গল্পটি লিখেছেন বাপ্পী মাহমুদ। এই গল্পের নায়ক একজন সিজোফ্রেনিয়ার পেশেন্ট। সে চোখে যা দেখে তা অনেক সময় বাস্তব থাকে না। এটি একটি গভীর ভালোবাসার গল্প। চলুন, মূল গল্পে যাওয়া যাক।

চায়ের শেষ চুমুক | বাপ্পী মাহমুদ

এক.

আমি যেদিন প্রিয়াকে বিদায় জানালাম, সেদিন পৃথিবীকেও বিদায় জানাতে ইচ্ছে হলো। এ কথা সত্য আমার বিদায়ে না প্রিয়ার কিছু যায় আসবে, না এই সমগ্র পৃথিবীর কিছু যায় আসবে। তবু এমন ভয়ংকর ইচ্ছা আমার হয়েছিল।

আর আমি আমার ইচ্ছের প্রতি এতটাই শ্রদ্ধাশীল ছিলাম যে, পৃথিবী ছাড়বার ইচ্ছেটা সিদ্ধান্তে মোড় নিয়েছিল।

কিন্তু মানুষ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সে কেবল সেই পথে শুধু যাত্রাই শুরু করতে পারে, শেষটা কখনোই তার হাতে থাকে না। এসব ভাবতে ভাবতে আমি চোখ মুছলাম। ইমোশনাল হতে আমার ভালো লাগে না।

টেবিলে চায়ের কাপ রাখবার শব্দ হলো। আমি না তাকিয়েই বললাম, “চায়ের কাপ নিয়ে যাও প্রিয়া। এখন চা খাব না।”

কথাটা শেষ করতে না করতেই আমার মনে পড়লো প্রিয়া এ বাড়িতে নেই। তারমানে চায়ের কাপ দিয়ে গেছে বন্ধু রাহাত। সে প্রায়ই এখানে আসে, আড্ডা দিয়ে চলে যায়। রাহাত এখনো এখানে আছে দেখে একটু বিরক্ত হলাম — মাঝে মধ্যে আমার একা থাকতে ভালো লাগে।

আমি এখন যে বাড়িটাতে আছি, এটা আমার নিজের টাকায় বানানো ছোটো একতলা বাড়ি। প্রিয়াকে বিয়ের সময় তার সাথে বেশ কয়েকটা চুক্তি হয়েছিল আমার। তারমধ্য থেকে একটা হলো — আমায় তাদের বাড়িতে ঘর জামাই থাকতে হবে।

আমি মেনে নিয়েছিলাম।

আরও একটা চুক্তি ছিল — আমায় ঘরের কাজগুলো করতে হবে। আর বিজনেস পারপাসে অফিস করবে প্রিয়া। আমি প্রায় সকল চুক্তিই মেনে নিয়েছিলাম। ওর বাড়িতে ঘরের কাজ করে যখন ক্লান্ত হতাম তখন ওর ছোটোবোন রিয়া আমার জন্য চা বানিয়ে দিতো।

আমি সবসময় গভীর ভালোবাসার গল্প তৈরি করতে চেয়েছিলাম প্রিয়ার সাথে। কিন্তু সেই জায়গাটা সম্ভবত রিয়া নিতে চেয়েছিল। আমার গভীর ভালোবাসার গল্প তাই হয়ে ওঠে মলিন। আর রিয়া ঠিকই আমার সাথে গল্প করতো।

দুই.

চা নিয়ে আমি বসার ঘরে এলাম।

ভেবেছিলাম, রাহাতকে দেখতে পাব। কিন্তু না, সে চলে গেছে। এটা মেজর ফ্যাক্টর নয়। মেজর ফ্যাক্টর হলো — সোফায় বসে আছে প্রিয়া। আমি অবাক হয়ে বললাম, “তুমি?”

প্রিয়া সহজ স্বরে বলল, “দেখা করতে এলাম।”
“কেন?”
“এটা আবার কেমন প্রশ্ন?”
“সেটা তুমিই ভালো জানো। ডিভোর্স নিয়ে লইয়ার হায়ার করবার উদ্যোগ তো তোমারই ছিল।”
“আমি এমনি এমনি লইয়ার হায়ার করিনি,” প্রিয়া রাগ করলো, “তুমি যদি আমাদের ভালোবাসার সম্পর্কে সিরিয়াস থাকতে তবে আমি এসব করতাম না।”

আমি চুপ হয়ে গেলাম, কিন্তু ওর প্রতিটি কথায় আমার চোখে ক্লান্তি নেমে এলো। আমি বললাম, “আমার মাথা ধরেছে। চা শেষ হওয়া পর্যন্ত তুমি থেকো, তারপর প্লিজ চলে যাও।”
“কোনো দরকার নেই,” প্রিয়া রাগ করে উঠে দাঁড়ায়, “আমি এখনই চলে যাচ্ছি।”

আমায় আর একটি কথাও বলবার সুযোগ না দিয়ে প্রিয়া চলে গেল।

আর আমি চায়ের শেষ চুমুক পর্যন্ত চা খেতে পারলাম না। চা’টা এখন বিস্বাদ লাগছে। যাকে জীবনের গভীর ভালোবাসার গল্প ভাবতাম, সেই প্রিয়ার কারণেই কি? আমি ঠিক করলাম প্রিয়াকে ফোন করব। সরি বলব।

আমি সেলফোন হাতে নিলাম। আর ওপাশে রিং হচ্ছে। রিং হচ্ছে, আমার হৃদস্পন্দন বাড়ছে। কেন তা জানি না।

» আরও পড়ুন: জীবন নিয়ে উক্তি ও পর্যালোচনা — প্রবন্ধ

তিন.

আশ্চর্য! প্রিয়ার ফোন, অথচ ফোনটা রিসিভ করলো রিয়া। রিয়ার কণ্ঠ আমি চিনি। বলিউডের রানি মুখার্জির মতো রিনরিনে গলার আওয়াজ তার। আমার কিঞ্চিৎ বিরক্ত লাগে এমন গলার স্বর শুনে।

রিয়া বলল, “আমি জানি আপুর ফোন আমি ধরাই আপনি রাগ করেছেন।”
“জানোই যখন তখন রিসিভার কানে নিলে কেন?” আমি রাগত গলায় জানতে চাই।
তারপর আর কথা নেই। ফোনটা হাত বদল হয়ে চলে এলো প্রিয়ার কাছে। প্রিয়া ফোন পেয়ে বিরক্ত, দ্রুত বলল, “কী বলবে তাড়াতাড়ি বলো, লইয়ারের কাছে যেতে হবে। আর শোনো, আগামীকাল তুমিও আসবে। কোর্টে আমাদের একসাথে ফর্মে সাইন করতে হবে।”

আমি বাকরুদ্ধ।

অবশেষে ডিভোর্স তাহলে হয়েই যাচ্ছে? আমার গভীর ভালোবাসার গল্প এভাবেই শেষ হয়ে যাবে? কেমন যেন কান্না পেল আমার। হাতের কাছের হাতছানি ভেবে প্রিয়াকে হারাবার ভয়ে খুব মন খারাপ হলো। আমি বললাম, “একটু আগে তো আমার সাথে কথা বলতে এসেছিলে, তখন এতকিছু জানাওনি কেন?”
“হোয়াট?” প্রিয়া চমকিত গলায় বলে, “সকালবেলা নেশা করেছো নাকি শর্ট টার্ম মেমোরি লস হয়েছে তোমার?”
“মানে?”
“আমি তোমার বাড়িতে যাইনি, ওকে?”
“ওকে।”
“ফোন রাখো।”

আমি ফোন রাখলাম। আর মনে মনে হতাশ হলাম নিজের অবস্থার জন্য — মানসিক দুরবস্থা। আমি টিনএজ থেকেই নিউরোলজিকাল পেশেন্ট। আমার সিজোফ্রেনিয়া রোগ আছে। সেসময় আমার মায়ের মৃত্যু এতই শকিং ছিল যে, আমার মস্তিষ্কে খুব জোরালো প্রভাব পড়ে। আমি মায়ের বিয়োগান্ত সময় নিতে পারছিলাম না।

তাই মস্তিষ্ক তখন কল্পনায় আমার মাকে এনে দেয়। আমি কল্পনাকে বাস্তব ভেবে নিই। মায়ের সাথে কথা বলি, হাসি। আমার বাবা যখন আমায় ডাক্তার দেখান, তখনো আমি জানি না কেন ডাক্তার দেখানো জরুরি।

চার.

ডাক্তার আমার বাবাকে কী বলেছিলেন জানি না, কিন্তু বাবা এরপর আমায় একাকিত্ব থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেন। বাবার একজন বিজনেস পার্টনার ছিলেন, বাবা বিপদে সেই বিজনেস পার্টনারকে সাহায্য করায় তিনি সবসময় বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতেন।

আর সেই লোকটাই ছিলেন প্রিয়ার বাবা।

আমি একটু বড়ো হলেই আমার বাবার বিজনেস লসের মুখ দেখতে শুরু করে। বাবার কোম্পানি বিক্রির সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল।

এ সমাজে মেয়ের বাবারা চান ছেলের বাবা প্রচুর ধনী হোক, যাতে মেয়ে ভালো থাকে। আমার বাবার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা বিপরীত। তিনি কোম্পানির বিপদ দেখে কোম্পানিটি তার সেই বন্ধু অর্থাৎ প্রিয়ার বাবার কাছে বিক্রি করতে চান। একইসাথে চান আমি তার বাড়ির ঘরজামাই হই।

প্রিয়ার বাবা রাজি হন।

একদিন বাবার বিজনেস পার্টনারের মেয়ে প্রিয়া আমার সাথে নিরিবিলি জায়গায় কিছু কথা বলতে চাইছিল। আমি তার সাথে রেস্টুরেন্টে দেখা করতে চাইলে সে বলল, “না! আরও নিরিবিলি জায়গা চাই।”

আমি যখন ভাবছি আরও নিরিবিলি জায়গা কী হতে পারে, তখনই প্রিয়া তাদের বাড়িতে যেতে বলল। আর আমাদের কথা হলো তার বেডরুমে। প্রিয়া এ ব্যাপারে আমায় পরবর্তীতে জানায় — সে নাকি আমায় পরীক্ষা করতে চেয়েছিল।

ওইদিন আমি তার বেডরুমে তার সাথে শারীরিকভাবে মিলিত হইনি। এটার জন্য সে আমায় ব্যাকডেটেড বলেছিল। আরও বলেছিল, “আপনাকে বিয়ে করলে আমার কপালে দুঃখ আছে।”

এই পর্যন্ত তবু ঠিক ছিল।

কিন্তু বিয়ের পরও শারীরিকভাবে আমি অনাগ্রহ দেখালে সে রাগ করেছিল। তার মতো শ্বেতশুভ্র ঝলমলে সুন্দরীকে পাশে পেয়েও আমি এমনটা করায় সে আমায় ‘হিটলার গোত্রের পুরুষ’ বলে তাচ্ছিল্য করেছিল।

» আরও পড়ুন: হিমু রিমান্ডে — বই রিভিউ

পাঁচ.

বাবার বন্ধুটি নিতান্তই ভালো মানুষ এবং বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন বলে এ বিয়েতে রাজি হন। সন্তুষ্টও হন। কিন্তু প্রিয়া আমার মতো ‘হিটলার গোত্রের পুরুষ’ পেয়ে ছিল অখুশি।

আমি হতাশ চোখে তার দিকে তাকাতাম। আমার সেই দৃষ্টিতে গভীর ভালোবাসার গল্প ছিল। কিন্তু সে খুবই রুক্ষ গলায় আমায় বলতো, “আজ সারাদিনে বাড়ির কাজগুলো ভালোভাবে করবে। আর বাইরে যাবার আগে সবসময় আমায় জানিয়ে যাবে।”

আমি মাথা নাড়তাম। তখন সে অহংকারী গলায় আরও বলতো, “ল্যাম্বরগিনি গাড়িটা ব্যবহার করছ না কেন? তুমি জানো ওটার দাম কত?”
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম। সে কৃত্রিম স্বরে বলতো, “আমার অফিসের দেরি হচ্ছে। লাভ ইউ। বাই।”

প্রিয়া চলে গেলেই আমি বাড়ির কাজে হাত লাগাতাম। রান্নাঘরের রান্না থেকে ঘর মোছা সব আমিই করতাম। ঘর গোছানোর জন্য কাজের লোক রাখা ছিল, আমিই ছাটাই করে দিয়েছি।

ঘরের কাজ শেষ হলে চা নিয়ে বসতাম। তখন কোত্থেকে রিয়া আসতো। আর তার ইউনিভার্সিটির গল্প বলে শোনাতো। চায়ের শেষ চুমুক পর্যন্ত আমায় ধৈর্য ধরে ওর গল্প শুনতে হতো।

“জানেন দুলাভাই, ইউনিভার্সিটির প্রায় সব ছেলেই আমার প্রেমে ফিদা। কিন্তু আমি কাউকে পাত্তা দিই না।”

অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমি জানতে চাই, “কেন?”
“কারণ ওরা কেউই আপনার মতো হ্যান্ডসাম না! হাহাহা!”
“মজা করছো আমায় নিয়ে?”
“না, আমি সিরিয়াস। আপনি সেদিন গোসলে যাবার আগে যখন টি-শার্ট খুলে খালি গা হলেন, তখন দেখেছি আপনার পেটে সিক্স প্যাক অ্যাবস আছে।”

আমি লজ্জায় কোথায় মিশে যাচ্ছিলাম ওর কথায়। আর রিয়া বলল, “আপনি খুব সুপুরুষ। আফসোস, আপু তা বুঝলো না।”

ছয়.

আমার বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গে ফিরি।

এখন আমি নিজের বাড়িতে বসে কাঁদছি। কাঁদতে চাইছি না, তবু কান্না চলে আসছে। সিজোফ্রেনিয়ার জটিলতা কিছুদিন ছিল না। হঠাৎ কেন ফিরে এলো? আমি গভীরভাবে ভাবছি। অথচ ভাবনার কূল কিনারা করতে পারছি না।

তখনই খোলা দরজার ওপাশে কারও শাড়ি পরিহিত ছায়া দেখা গেল — প্রিয়ার ছায়া। আমি বললাম, “ভেতরে এসো প্রিয়া।”

প্রিয়া ভেতরে এলো। কী মায়া ওর চেহারায়! আমি মুগ্ধ হয়ে চেয়ে আছি। যদিও সবটাই ইল্যুশন — এটা প্রিয়া নয়। এটা স্রেফ অসুস্থ মনের সুখ কল্পনা। কাল্পনিক প্রিয়া বলল, “কী ভাবছো?”
“তুমি তো জানোই কী ভাবছি, জানো না?”
“না,” প্রিয়ার চেহারা ব্যথিত হয়ে এলো, “তোমায় অনেক কষ্ট দিয়েছি। তার জন্য সরি।”
“তুমি আমার কল্পনা। উইশফুল থিংকিং।”
“কী বলছো?”
প্রিয়ার চোখেমুখে অবিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ল।

আমি হতাশ হলাম। তার অবিশ্বাসী চেহারা এত জীবন্ত কেন?
“চলে যাও প্রিয়া,” আমার কণ্ঠ কাঁপলো, “আমি এখন আর কল্পনা নিয়ে বাঁচতে চাই না। আমি ক্লান্ত।”
“আমিও ক্লান্ত। তোমায় বুঝতে না পেরে।”

এটা বলে প্রিয়া সত্যিই চলে গেল।

আর আমি কী যেন ভাবতে থাকি। হঠাৎ মনে হলো সে যদি স্রেফ কল্পনায় হতো তবে আমি বলবার সাথে সাথে চলে যেত না, চোখের দৃষ্টিতে তাকে এতটা জীবন্ত মনে হতো না।

আমি চা নিয়ে বসে ছিলাম। চায়ে শেষ চুমুক দিয়ে দেখি চা ঠান্ডা হয়ে গেছে। তবু চা’টা শেষ করি। চায়ের ঘ্রাণটা তখন উপভোগ করতেও মন চায়। আর প্রিয়া আবার আমার ঘরে প্রবেশ করে। বলে, “তোমায় কিছু কথা বলতে চাই। বলেই চলে যাব।”

» আরও পড়ুন: গভীর রাতের নোটিফিকেশন — হাসির গল্প

সাত.

প্রিয়া খুব সচেতন কণ্ঠে কথা বলতে শুরু করে। তার চোখে পানি। আর আমার মনেও মেঘ জমতে থাকে।

“তুমি মানসিকভাবে অসুস্থ, তা আমি জানতাম,” প্রিয়া গাঢ় আবেগে বলে, “ডাক্তার বলেছিলেন তোমায় সুস্থ করার একটাই রাস্তা আছে। আর তা হলো, তুমি কল্পনায় যেমনি তোমার মাকে সবসময় দেখো, তেমনি অন্য কাউকে তোমার সামনে বাস্তবিকই আসতে হবে। আর তোমাকে সে বিশ্বাস করাতে বাধ্য করবে — তুমি যা দেখছো তা কল্পনা। যখনই তুমি নিজেও বাস্তবকে কল্পনা ভাবতে শুরু করবে তখনই আবার সেই ব্যক্তিকে তোমার সামনে আসতে হবে, এবার সে নিজেকে তোমার সামনে নিজেকে বাস্তব বলে তুলে ধরবে। আর তুমি যখনই বুঝবে এটা বাস্তব, তখনই তুমি সুস্থ হতে শুরু করবে।”

প্রিয়ার কথায় কিছু একটা ছিল, আমি সাথে সাথেই জবাব দিতে পারি না। আর প্রিয়ার চোখ পানিতে ভরে উঠছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম ওই পানিতে আমি আছি — ভালোবাসা হয়ে।

আমি থেমে থেমে আবেগী গলায় বললাম, “সকালে তাহলে তুমি সত্যিই এসেছিলে?”
“হ্যাঁ,” প্রিয়া চোখ মুছলো, “কারণ আমি তোমায় ভালোবাসি।”

আমি হাসিমুখে তাকালাম।

কিন্তু আমার চোখেও পানি জমেছিল। আমি সন্তুষ্ট গলায় বলি, “ডিভোর্স ফর্মের সাইনটা তাহলে আর করতে হবে না?”
“না।”
“চলো।”
“কোথায়?”
“খুবই নিরিবিলি একটা জায়গায়। বিয়ের আগে তুমি যখন নিরিবিলি জায়গার কথা বলেছিলে, তখন আমি শালবনের কথা ভেবেছিলাম। এসো, আজ আমরা গাড়ি নিয়ে লং ড্রাইভে সেখানে যাই।”

প্রিয়া হাসে। বলে, “তোমাকে আমি শুরু থেকেই ভালোবাসি। কিন্তু কখনো বলতে পারিনি।”
আমি ওর চোখের পানি মুছে দিলাম। আর বললাম, “গভীর ভালোবাসার গল্প এমনই হয়। কেউ কাউকে ভালোবাসি কথাটা বলতে পারে না।”


গল্প: চায়ের শেষ চুমুক

লেখা: বাপ্পী মাহমুদ 

প্রিয় পাঠক, নিয়মিত এই ধরনের আরও গল্প পড়তে শব্দশৈলী পোর্টালফেসবুক পেজে চোখ রাখুন। ধন্যবাদ।

Share This:

মন্তব্য করুন:

Scroll to Top