‘সবই ছিল খেলা’ — থ্রিলার গল্প। গল্পটি লিখেছেন বাপ্পী মাহমুদ। এটি একটি থ্রিলার জনরার গল্প।
গল্পে নওশাদ একজন সাইকোলজি বিভাগের লেকচারার। তার সাথে ওসি ফারদিনের একটা ক্রাইম নিয়ে জল ঘোলা হয়। ফারদিন যখন কেসটা নিয়ে খুব কনফিউজড তখনই নওশাদের নাম সামনে আসে।
কিন্তু নওশাদ আসলে করেছে কী? এই রহস্যের মাঝে কোডওয়ার্ডের মতো ভেসে আসে — সবই ছিল খেলা। কিন্তু সত্যিই কি সবই ছিল খেলা? নাকি তার আড়ালে ছিল মুখোশ? গল্পের গাঁথুনিতে সেই টুইস্ট ডালপালা মেলে আছে, যা আপনাকে চিন্তিত করবে। হয়তো আপনাকে মুগ্ধও করবে। এটাই ‘সবই ছিল খেলা’ গল্পের স্বার্থকতা!
সবই ছিল খেলা | বাপ্পী মাহমুদ
এক.
সেদিন বৃষ্টি ছিল। আর বাচ্চা একটি ছেলে অসহায়ের মতো খুঁজছিল একটা হেল্পিং হ্যান্ড, জাস্ট হেল্পিং হ্যান্ড! ছেলেটি তার চোখের চশমা হারিয়ে ফেলেছে। পাবলিক প্লেসে এটা নিয়ে মজা করছে কিছু কিশোর বয়সী ছেলেরা।
সবাই দৃশ্যটা দেখছে।
কিন্তু কারও বিকার ছিল না। বাচ্চাটি হঠাৎ মানুষের দিকে অনুনয় করা বন্ধ করলো। এতে ছেলেগুলো মজা পেয়ে যায়। কিন্তু বাচ্চাটি তখনই একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয়। যে সিদ্ধান্ত তাকে শক্তিশালী হতে বাধ্য করেছে!
দুই.
লোকটির নাম নওশাদ হোসেন। ঢাকার একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির লেকচারার। বয়স ত্রিশের আশেপাশে। চশমা পরায় বয়সের তুলনায় বেশি গম্ভীর দেখায়।
তবু তার অডিটোরিয়ামে ভিড় লেগে যায়।
ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে পছন্দ করে ক্লাসে অ্যাটেন্ড করে — বিষয়টি এমন নয়। বরং তিনি স্ট্র্যাটেজি জানেন। এক, তিনি ভালোভাবে তার সাবজেক্টটি বোঝাতে পারেন। আর দুই, তার বিহেভিয়ারে একটা সিরিয়াস ভাইব আছে। স্টুডেন্টরা এই দ্বিতীয় কারণে তাকে ভয় করে। ভয়টা অজানা, তবে স্যারের পার্সোনালিটি তারা চিনতে পারে।
নওশাদ হোসেন আজ ক্লাসে ঢুকলেন দুই মিনিট দেরি করে। ক্লাসে প্রবেশ করতেই সবাই দাঁড়ালো। মানে অন্যদিনের মতই আজও সবাই তাকে একইভাবে সম্মান জানালো। নওশাদ হোসেন মনে মনে হাসলেন।
তিনি আসলে এভাবে দেরি করে এসে একটা এক্সপেরিমেন্ট করেছেন।
স্টুডেন্টরা তার পার্সোনালিটি সম্পর্কে সত্যিই অবগত কিনা এই নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট। এখন দেখা যাচ্ছে, তারা তাকে সত্যিই ভয় করে। নওশাদ হোসেন মনে মনে বললেন, “My dear students, knowledge is everything!”
নওশাদ চোখ বন্ধ করলেন। আর মনে মনে আরও বললেন, “আমার জ্ঞান স্পেসিফিক, তাই নিয়ন্ত্রণও সহজ।”
» আরও পড়ুন: তখন শেষ বিকেল — গভীর ভালোবাসার গল্প
তিন.
ক্লাসের হোয়াইট বোর্ডে বড়ো করে লেখা — “Human beings are programmable”.
নওশাদ হোসেন হাত নেড়ে স্টুডেন্টদের বোঝাচ্ছেন। সাইকোলজি অনুযায়ী তার সাবজেক্ট বিহেভিয়ার সাইকোলজি। তিনি বললেন, “মানুষ প্রকৃতপক্ষে কোনোদিনই পুরোপুরি স্বাধীন নয়। ভয়, পরিবেশ আর পুরস্কার তাদের আচরণ অনেকাংশেই দখল করে নেয়। স্পেসিফিক্যালি মানুষকে এই তিনের কম্বিনেশনে একটা ক্যাটাগরিতে আনা সম্ভব।”
সবাই চুপচাপ শুনছে। নওশাদ হোসেন যোগ করলেন, “আমি দুই মিনিট দেরি করেছি, যাতে বুঝতে পারি তোমরা কতটা স্বতন্ত্র। আমি এখন আমার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি — আমার প্রতি তোমাদের অজানা ভয় আছে। যার কারণে দুই মিনিট দেরি জেনেও তোমরা বিরূপ মনোভাব দেখাওনি।”
স্টুডেন্টরা এখনও চুপ।
নওশাদ হোসেন একজনকে দাঁড় করিয়ে বললেন, “তুমি যদি ক্লাসে ইচ্ছে করে দেরিতে আসো আর তোমার এই ইচ্ছাকৃত দেরির স্বাধীনতা দেখে আমি মুচকি হাসি, তবে কি তুমি আবার দেরি করবে?”
ছেলেটি তাকিয়ে রইল। কিন্তু পুরোপুরি বুঝলো না স্যার তাকে প্রশ্ন করেছেন কিনা। নওশাদ হোসেন নিজেই বললেন, “আবার যদি বলি দেরি করলে নাম্বার কেটে নেবো, তখন কি তুমি দ্রুত ক্লাসে আসবে না? হ্যাঁ, দুই ক্ষেত্রেই পরিবেশ অনুযায়ী ফলাফল তৈরি হবার সম্ভাবনা আছে। আর এটাকেই সাইকোলজির ভাষায় বলে ‘operant conditioning’.”
নওশাদ ছাত্রটিকে বসতে বললেন। আর সেইসাথে স্থির চোখে তাকিয়ে রইলেন ছেলেটার দিকে। সেদিন রাতেই ছেলেটি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে মরে যায়। মৃত্যুর আগে সে চিলেকোঠার ঘরে লিখে রেখেছিল — “সবই ছিল খেলা”।
চার.
মৃত ছাত্রটির নাম ফিরোজ।
ওর মৃত্যুতে মামলা হয়, থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি কেস সামলাচ্ছিলেন। তবে তিনি এ বিষয়ে সিরিয়াস ছিলেন না। মামুলি সুইসাইড কেস বলেই মনে হচ্ছিল তার। ‘সবই ছিল খেলা’ — এটা দেখে মনে হয় ছেলেটা প্রেমে ধোকায় পড়েছিল।
কিন্তু ওসি সাহেব খুব বেশিদিন শান্তিতে থাকতে পারলেন না। একই প্যাটার্নের আরও ছয়টা কেস এই ঘটনার মাত্র তিনদিনে এসে জড়ো হয়। সব মৃত্যুই তরুণ-তরুণীর। এরা যে শুধু লিখে রেখে গেছে ‘সবই ছিল খেলা’ তা নয়, বরং জীবদ্দশায়ও কাছের মানুষদের এটা বলতো। কিন্তু কেউ কিছু বোঝেনি।
ওসি মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। ‘সবই ছিল খেলা’ এটা কোড ওয়ার্ডের মতো শোনাচ্ছে। এসময় ঘরে ঢুকল এক সাংবাদিক। ওসির কেন জানি মনে হলো সাংবাদিকটাকে তিনি কোথায় দেখেছেন। সাংবাদিকটির বয়স কম, তেজ বেশি। এসেই জিজ্ঞেস করলো, “আমি কি জিজ্ঞেস করতে পারি মোট সাতজন তরুণ-তরুণীর মৃত্যুর পরও আপনি এত রিল্যাক্সড কীভাবে?”
ওসি মাথা গরম করলেন, কিন্তু প্রকাশ করলেন না। ঠান্ডা গলায় বললেন, “চা খাবেন?”
“না,” সাংবাদিক তাড়া নিয়ে বলল, “প্যাটার্ন নিয়ে কী ভাবছেন? মূল নকশার পেছনে কে থাকতে পারে? তার উদ্দেশ্য কী?”
“কেউ নেই।”
“কেউ নেই?”
“না,” ওসি গদাইলশকরি চালে পায়ের ওপর পা তুলে আয়েশি ভঙ্গিতে বসলেন, “ছেলে ছোকরার কাজ, হয়তো ড্রাগ অ্যাডিকশনের কেস।”
“তারমানে আপনি লেটেস্ট নিউজে আপডেট নন।”
ওসি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলেন।
সাংবাদিক তো মনে হচ্ছে আটঘাট বেধে নেমেছে! ওসি ফারদিন রহমান হাসার চেষ্টা করলেন, “আসলে.. ব্যস্ত থাকি তো। অনেক কাজ থাকে।”
আশ্চর্যের বিষয়, সাংবাদিক অল্প হেসে চলে গেল। আর জানিয়ে গেল, “আপনার সাথে কথা বলে ভালো লাগলো। তবে আপনার ইন্টারভিউ আমরা লিখব না। ভয় নেই।”
ওসি কিছুই বুঝল না!
পাঁচ.
“স্যার, আমায় কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন স্যার?”
মেয়েটা ভয় মিশ্রিত গলায় জানতে চাইলো। নওশাদ হোসেন কৃত্রিম ধরনের হাসি মুখে এনে বলেন, “আমি তোমার স্যার নই!”
মেয়েটি বুঝল না এই কথার কী অর্থ হতে পারে।
সে অবাক হয়ে দেখল তাকে রেডরুম নামে একটা ঘরে নেওয়া হচ্ছে। ডার্ক ওয়েবে এমন ঘর থাকে সে শুনেছে। তার স্যার কি এরকম কেউ?
মেয়েটি ভেতরে ঢুকে দেখে তার সহপাঠী আরও দুজন এখানে আছে। তবে তাদের চোখে ভয় নেই। কেমন আচ্ছন্ন মাখা অল্প হাসি মুখে! নওশাদ হোসেন মেয়েটিকে বললেন, “মিরা, operant conditioning শিখবে না?”
মিরা নামের মেয়েটি দেখে তার স্যারের হাতে একটা স্টপওয়াচ। আর তিনি কোড ওয়ার্ডের মতো কিছু বলতে থাকলেন। মিরা স্টপওয়াচে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বাকি দুজনের মতো আচ্ছন্ন হয়ে গেল। ঘরটিতে তারা তিনজনই হিপনোটাইজ হয়ে আছে।
» আরও পড়ুন: রিলেশনশিপ — এক অদ্ভুত ভালোবাসার গল্প
ছয়.
ওসি ফারদিন রহমান তখন থেকেই কী ভেবে চলেছেন। তিনি একটা হিসাব প্রায়ই মিলিয়ে ফেলছেন, তবু মিলছে না। ব্যাপারটা জিগস পাজেলের মতো এলোমেলো লাগছে।
ফারদিন সিগারেট ধরালেন।
রহস্যের যন্ত্রণায় তার মাথার শিরা দপদপ করছে। আবার অজানা কারণে ভালোও লাগছে। আচ্ছা, সাংবাদিকটাকে সন্দেহের খাতায় আনা যায় না? ফারদিন ভাবলো, সাংবাদিকের আচরণ যথেষ্ট রহস্যময়। সে কোনো ছদ্মবেশীও তো হতে পারে।
ফারদিন ভুরু কুঁচকালো। তাকে পুরো ব্যাপারটা এখনই বুঝতে হবে। সে কাউকে কিছু না বলে মোটরসাইকেল স্টার্ট দিলো। যেন সে জানে কোথায় যেতে হবে। রাত তখন ঠিক একটা বাজে।
ফারদিন বাইকে বসে ঘামছিল।
আর তখনই তার লেকচারার নওশাদ হোসেনের কথা মনে পড়ল। নওশাদের চেহারা আর সাংবাদিকের চেহারা একই। তারমানে সাংবাদিকটা আর কেউ ছিল না, বরং সাংবাদিকের ছদ্মবেশ নিয়ে ঢুকেছিল নওশাদ। সাথে সাথেই আর্কিমিডিসের মতো আনন্দ উত্তেজনা নিয়ে ফারদিন বলে বসে, “ইউরেকা! ইউরেকা!” তার উত্তেজনা এত বেশি ছিল যে, ব্রেক চাপার বদলে ক্লাচ চেপে ধরে রাস্তায় নির্মমভাবে পড়ে যায়।
সাত.
নওশাদ! এই ছেলেটিকে ফারদিন ছোটোবেলা থেকেই চিনে। ফারদিন যখন ক্লাস টেনে পড়ে, নওশাদ তখন ক্লাস ফোরের স্টুডেন্ট। ফারদিন প্রচুর র্যাগিং করতেন এই ছেলেকে নিয়ে।
এখন বুঝতে পারছেন র্যাগিং করা উচিত হয়নি।
আজ যে নওশাদ সাইকো হয়েছে, তার বহু কারণের একটা বড়ো কারণ তো ফারদিন নিজেই! এটা ভেবে তিনি ইতস্তত হলেন। বাইক থেকে পড়ে যাওয়ায় তার বাম হাত ছ্যাচড়ে গেছে। তিনি একটা ফার্মেসি খোলা পেলেন। সেখানে গিয়ে একটু তুলো আর স্যাভলন চাইলেন।
ফারদিন জানেন নওশাদ তাকে চিনে না। চিনলে সে সাংবাদিক পরিচয়ে হাজির হতো না। তবু কোথায় যেন যুক্তি মিলে না। একজন লেকচারার হঠাৎ এমনটা কেন করবে?
মাথায় একরাশ চিন্তা — নওশাদকে তিনি এখন কোথায় পাবেন? যদিও বাড়িটা তিনি চিনেন। কিন্তু এখন সে বাড়িতে থাকবে কী? তখনই ফার্মেসীর ছেলেটা বলে ওঠে — “সবই ছিল খেলা”।
ফারদিন চমকে তাকান। আর ফার্মেসির অল্পবয়সী ছেলেটা বলে ওঠে, “স্যার, কেমন আছেন স্যার? আপনারে তো আমি খুঁজিয়া বেড়াই স্যার!”
ফারদিনের মনে হলো, ছেলেটা কোড ওয়ার্ডে কথা বলছে। তার সাজপোশাক যথেষ্ট ভদ্র, চেহারাও। কিন্তু কথা বলার ধরনটা খাপছাড়া। এমন কেন?
ছেলেটি বলল, “স্যার, আমি ওই ছাদটা থেকে লাফ দেবো। আমার আগেও ওই ছাদে অনেকে উঠেছে।”
আট.
ফারদিন এক মুহূর্ত কিছু ভাবলেন। তারপর ছেলেটির দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বলেন, “I’m sorry!”
এবার তিনি প্রচন্ড শব্দে ছেলেটিকে থাপ্পড় মারেন। আর ছেলেটি? থাপ্পড় খেয়ে যেন চেতনা ফিরে পায়। কিছুক্ষণ অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে এলোমেলো দৃষ্টিতে দেখে আশপাশ। তারপর কেঁদে ফেলে।
ফারদিন তাকে আশ্বস্ত করেন, সিগারেট ধরিয়ে বলেন, “তোমার নাম কী?”
“রকি,” ছেলেটা দ্রুত বলে, “স্যার, হাতে আর সময় নেই! দ্রুত চলুন। আমার মতো আরও দুজন বিপদে আছে।”
ফারদিন সিগারেট ফেলে বাইকে বসেন। ছেলেটিকে বসান পেছনের সিটে। বাইক ছুটছে, রকির দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী। তারা এলো রেডরুমে। ফারদিন দ্রুত ঘরে ঢোকেন। ভেবেছিলেন, নওশাদকেও তিনি পেয়ে যাবেন। কিন্তু না!
নওশাদ আরও বড়ো ট্র্যাপ তৈরি করে গেছে।
রেডরুমে থাকা ওরা দুজন নিজেদের গলায় ছুরি ধরে আছে। ফারদিন নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকেন কিছুক্ষণ। ওর জীবনে কত জটিল কেস এসেছে, তবে আজকের সাথে সেগুলো মেলানো যাচ্ছে না। এসময় রকি ওদের অগোচরে পেছন থেকে এসে মাথায় শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করে।
ফারদিন জিজ্ঞাসু চোখে তাকান। রকি বলল, “এছাড়া কোনো উপায় ছিল না। আর আমি বুঝেশুনেই মেরেছি। অল্প কিছুক্ষণ ওরা সেন্সলেস থাকবে।”
» আরও পড়ুন: শূন্যতায় খুঁজি তোমায় — নতুন রোমান্টিক গল্প
নয়.
ফারদিন আর রকি ওদেরকে টেনে তুলে বাইরে আনতে চাইছিল। ফারদিন থানায় ফোন করেছেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার গাড়ি নিয়ে রওনা হয়েছেন। কিন্তু করিডোর থেকে পায়ের আওয়াজ শুনে ওরা দুজনেই ভড়কে যায়।
“স্যার!” রকি সাবধান করে, “আপনি এগুবেন না। যেমন দাঁড়িয়ে আছেন, তেমন থাকুন। উনি আসছেন!”
ফারদিনের ইচ্ছে হচ্ছিল জিজ্ঞেস করেন উনিটা কে। সেই অবকাশ মিলল না। তার আগেই এন্ট্রি নিলো নওশাদ হোসেন।
ফারদিন রিভলভার হাতে এনে রেখেছিলেন, সেফটি ক্যাচ অন করতেই নওশাদ অবাক গলায় বললেন, “কী হয়েছে স্যার?”
“কী হয়েছে?” ফারদিন বন্দুক তাক করেন, “তুই এত বড়ো মাস্টারমাইন্ড সেটা আমি বুঝিনি।”
“কীসের মাস্টারমাইন্ড স্যার?”
কিছুক্ষণ নওশাদ কিছু ভাবলেন। তারপর বললেন, “এগুলো আমি করিনি।”
ফারদিন অবাক হয়ে বন্দুক নামান। নওশাদের গলায় কিছু ছিল, যা তাকে বিশ্বাসী হতে বাধ্য করে। আর তখনই নওশাদ নিজে বন্দুক বার করে পরপর দুটি গুলি চালান।
এরমধ্যে একটা গুলি এসে লাগে ফারদিনের হাতের মাংসপেশিতে।
রকি তখনই পালিয়ে যায়। সে ছুটছে। দিগ্বিদিক হয়ে ছুটছে। ছুটতে ছুটতে সে পুলিশের গাড়ি আসবার সাইরেন শোনে। সে ছুটবার গতি বাড়ায়। আর তখনই সামনে কেউ চলে আসে, রকি ধাক্কা খেয়ে পড়ল মেঝেতে।
রকি তাকাতেই নওশাদকে দেখল।
নওশাদ হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। রকি ভয়ে ভয়ে হাত ধরে। নওশাদ বলেন, “আর কোনো ভয় নেই!”
রকি বুঝতে পারে না কী প্রসঙ্গে কথা হচ্ছে। তখনই রেডরুম থেকে বেরিয়ে আসে আসল টুইস্ট — নওশাদের মতো দেখতে তারই জমজ ভাই নিয়ন হোসেন!
“নিয়ন,” নওশাদ চিৎকার করেন, “ভেতরে যারা আছে তাদেরকে মারিস না ভাই আমার! আমি তোর হয়ে কেসটা লড়ব। কিন্তু দোহাই তোর, নিজ হাতে খুন করিস না।”
“আমি কাউকে মারিনি।” নিয়ন ক্লান্ত কণ্ঠে জানায়, “পুলিশ আর তোর দুই ছাত্র সবাই ভালো আছে।”
“অসংখ্য ধন্যবাদ!”
নওশাদ আশ্বস্ত হয়। পুলিশের গাড়ি এসে থেমেছে। ভেতর থেকে নিয়নকে তারা ধরে নিয়ে গেল।
দশ.
ফারদিন, নওশাদ আর রকি দাঁড়িয়েছিল। তাদের দিকে একবার তাকায় নিয়ন। কিন্তু কিছু বলে না। পুলিশ ওকে নিয়ে যাবার পর নওশাদ কেঁদে ফেলেন।
ফারদিন আর রকি চুপ।
নওশাদই বলেন, “ছোটোবেলা থেকে ও খুব ভায়োলেন্ট হতে শুরু করে। আমার বাবা-মা আর আমি ওকে বুঝিয়েও পথে আনতে পারিনি। বড়ো হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিলো। কিন্তু আমি যখন সাইকোলজির ওপর থিসিস লিখতাম ও তখন এসব বিষয় নিয়ে পড়তে শুরু করে। আর মানুষের ওপর টর্চার দিয়ে হিপনোটিজম শিখে নেয়। সেখান থেকেই ওর বর্বরতার শুরু!”
ফারদিন সহানুভূতির হাত বাড়ান। বলে, “I’m sorry! আমিও একসময় নিয়ন ছোটো থাকতে ওর সাথে মিস বিহেভ করেছি। আসলে.. র্যাগিং ভালো কিছু না। আমাদের বোঝা উচিত।”
“ও নিজ হাতে কাউকে খুন করেনি,” নওশাদ চোখ মুছল, “ওর কি কঠিন শাস্তি হবে?”
“হ্যাঁ,” ফারদিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী কেসটা অনেক জটিল। তবে ফাঁসি অবধি না যাবার চেষ্টা করা যাবে।”
নওশাদ আর কিছু বললেন না।
ফারদিন লম্বা শ্বাস নেন। বলেন, “তুমি একদম ট্র্যান্সপ্যারেন্ট এই কেসে। আর কোনো ভয় নেই!”
গল্প: সবই ছিল খেলা
লেখা: বাপ্পী মাহমুদ
প্রিয় পাঠক, নিয়মিত এই ধরনের আরও গল্প পড়তে শব্দশৈলী পোর্টাল ও ফেসবুক পেজে চোখ রাখুন। ধন্যবাদ।



